রাশিয়ার সবচেয়ে পরিচিত স্বাধীন সংবাদপত্র নোভায়া গাজেতা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পত্রিকাটির প্রধান সম্পাদক সের্গেই সোকোলভ জানান, রুশ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার চাপে সম্পাদকীয় দল কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর দিয়েছে।
সোকোলভের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ৯ নভেম্বর মস্কোর দীর্ঘদিনের কার্যালয়ের বাতি নিভিয়ে দেওয়া হবে এবং পত্রিকার সার্ভারও বন্ধ করা হবে। নিজের বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নোভায়া গাজেতার অস্তিত্ব আর থাকছে না।
কয়েক সপ্তাহ ধরেই বাড়ছিল চাপ
চলতি মাসের শুরুতে সোকোলভকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর বাসায় তল্লাশি চালায় কর্তৃপক্ষ। এটি ছিল পত্রিকার সহকর্মী ওলেগ রলদুগিনের বিরুদ্ধে চলা একটি ফৌজদারি মামলার অংশ। রলদুগিনকে গত এপ্রিলে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যে অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়েছে, যদিও রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ জানিয়েছে, তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বর্তমানে তিনি গৃহবন্দী, যার মেয়াদ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
নোবেলজয়ী সম্পাদকের পত্রিকা
১৯৯৩ সালে যাত্রা শুরু করা নোভায়া গাজেতার প্রতিষ্ঠায় সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভ তাঁর ১৯৯০ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থের একটি অংশ দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনের প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি মুরাতভ মত প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকার জন্য ২০২১ সালে ফিলিপাইনের সাংবাদিক মারিয়া রেসার সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত এই পত্রিকার অন্তত ছয়জন সাংবাদিক বিভিন্ন সময়ে খুন হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত আনা পলিতকোভস্কায়া, যিনি চেচনিয়া যুদ্ধের নৃশংসতা নিয়ে লিখতেন। ২০০৬ সালে মস্কোয় নিজের অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে সংকুচিত পরিসর
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর পর রাশিয়ায় গণমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরও কঠোর হয়। ওই বছরের মার্চে সরকারি সতর্কবার্তার পর নোভায়া গাজেতা রাশিয়ায় প্রকাশনা স্থগিত করে, পরে আদালতের মাধ্যমে পত্রিকাটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। ক্রেমলিন পত্রিকাটিকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ তকমাও দিয়েছে, যা ভিন্নমত দমনে ব্যবহৃত হয় বলে সমালোচকদের অভিযোগ। এর মধ্যে দেশটির অধিকাংশ স্বাধীন সাংবাদিক নির্বাসনে চলে গেছেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের ২০ বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর
তথ্যসূত্র: এএফপি / দ্য ডেইলি স্টার, ব্রেকিং নিউজ (আয়ারল্যান্ড)
ছবি: NVO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) — মূল ছবি


