মঙ্গলবার, এপ্রিল ২১, ২০২৬

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ব্যাংকে পড়ে থাকা তহবিলে, ভারতীয় বন্ড কিনছে রাশিয়া

অনলাইন ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে রাশিয়ার যে তহবিল পড়ে আছে, তার একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরীণ বন্ডে বিনিয়োগ হচ্ছে সরকার। রাশিয়ার সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্য করতে চেয়েছিল ভারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা কারণে রাশিয়া তাতে সায় দেয়নি।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। রাশিয়ার ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয় পশ্চিমা দেশগুলো। তখন রাশিয়ার কাছ থেকে মূল্য ছাড়ে বিপুল পরিমাণে তেল কেনা শুরু করে ভারত। এই বাস্তবতায় রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি অনেক বেড়েছে।

তবে রাশিয়া ঠিক কী পরিমাণ অর্থ ভারতের বন্ডে বিনিয়োগ করেছে, তা জানা না গেলেও বন্ড বাজারের সূত্র জানিয়েছে, সরকারের সিকিউরিটিজে ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরির মালিকানা বাড়ছে।

আরও পড়ুন  ভারতে ২ হাজার রুপির নোট নিতে অনেক দোকানীর অনিহা

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সূত্র জানিয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় শেষ প্রান্তিকে সরকারের সিকিউরিটিজের মালিকানার ক্ষেত্রে ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরির হিস্যা বেড়েছে। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকে যার পরিমাণ ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ, শেষ প্রান্তিকে তা ৭ দশমিক ৫৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে অর্থেরও একটি হিসাব দিয়েছে। ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিকে এই ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরির বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ২০ হাজার কোটি রুপি; বছরের শেষ প্রান্তিকে যা ৭ লাখ ১০ হাজার কোটি রুপিতে উন্নীত হয়েছে। তবে এই ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে কারা পড়ছে, তার সংজ্ঞা দেয়নি আরবিআই। ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কিছু পেনশন প্রতিষ্ঠান ও মন্দির ট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠান এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত।

তবে ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকের রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সূত্র জানিয়েছে, দেশটির বিভিন্ন ব্যাংকে পড়ে থাকা রাশিয়ার অলস অর্থ ট্রেজারি বিলের মতো সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় কেন্দ্রীয় মসজিদে ইসরাইলি হামলা, নিহত ১৮

এমনকি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যক্তি শ্রেণির কিছু বিনিয়োগকারীও এই ‘অন্যান্য’ ক্যাটাগরিতে পড়েন। এদিকে ভারত রাশিয়ার সঙ্গে রুপিতে বাণিজ্যের বিষয়ে ঐকমত্যে আসতে অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। রাশিয়া মনে করে ভারতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য চালু হলে বছরে উদ্বৃত্ত অঙ্ক ৪ হাজার কোটি ডলার (প্রায় ৩,২৭,১২০ কোটি রুপি) ছাড়িয়ে যাবে। তাদের প্রশ্ন, এত বেশি রুপি দিয়ে তারা কী করবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রুপি পুরোপুরি সোনা বা অন্যান্য দেশের মুদ্রায় রূপান্তরযোগ্য নয়, আবার আন্তর্জাতিক রপ্তানি বাজারে ভারতের হিস্যা মাত্র ২ শতাংশ। সে জন্য ভারতীয় মুদ্রায় বাণিজ্য করতে তারা আগ্রহী নয়। আলোচনায় সম্পৃক্ত সরকারি সূত্রের খবর, রাশিয়া রুপিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না; তারা বরং চীনের ইউয়ান বা অন্য দেশের মুদ্রায় পণ্যের দাম পরিশোধে আগ্রহী।

আরও পড়ুন  র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারতকে পেছনে ফেলে দুইয়ে পাকিস্তান

-খবর ইকোনমিক টাইমস

/আবদুর রহমান খান/

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ