
বেশ কিছুদিন আজমেরী হক বাঁধন–এর নতুন কোনো কাজের খবর নেই। ২৮ অক্টোবর ছিল তাঁর জন্মদিন। জন্মদিনে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন মনজুর কাদের.
আজমেরী হক বাঁধন : ধন্যবাদ। জন্মদিনে কোনো পরিকল্পনা নেই।
প্রথম আলো :
জন্মদিন এলেই বয়স নিয়ে অনেকে চিন্তিত হন। আবার কেউ বলেন, বয়স হচ্ছে শুধু একটা সংখ্যা। আপনার কাছে কোনটা?
আজমেরী হক বাঁধন : বয়সটা আমার কাছে শুধুই বয়স। তাই আলাদাভাবে কিছু চিন্তা করি না। প্রতিটি বয়স পার করে এখন ৪১ বছরে আছি। আশা করি, সামনে অনেক বছর বেঁচে থাকব। তত দিন নানা রকম অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাব। আমার কাছে মনে হয়, ৪০ বছর পার হওয়ার পরে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছি, গত বছর। আর সেটি আমার খুব চমৎকার লেগেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, নতুন করে জন্ম হয়েছে—চিন্তায়, মননে, জীবনযাত্রায়, সবকিছুতে। আমার স্বপ্ন, আমার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস, সম্মান, সবই বেড়েছে। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে, ৪০ বছরে ঢুকে পড়ার মধ্য দিয়ে নতুন জীবনের সূচনা হয়েছে।
আজমেরী হক বাঁধন : এখন কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি। আশা করি, অস্বস্তিটা কিছুদিনের মধ্যে কাটিয়ে উঠতে পারব। বর্তমান পরিস্থিতিই আসলে আমাদের অস্বস্তির কারণ। আমরা একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে আছি। আসলে এমন একটা শাসনব্যবস্থায় ছিলাম, সেখান থেকে নতুন সরকার এসে, সুন্দর করে অ্যাকিউমুলেট করা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। আমরা জনগণ যারা আছি, তারাও ভীষণ অস্থির। নানা রকমের ঘটনা ঘটছে, সেগুলোতে অস্বস্তি হওয়াটাও স্বাভাবিক। একটা নষ্ট রাষ্ট্রব্যবস্থাকে সঠিক করার কঠিন চ্যালেঞ্জ তো আমাদের এই সরকারের এবং জনগণের। সেই জায়গা থেকে মনে হয়, যে ঘটনাগুলো ঘটছে, আশপাশে অস্থিরতা কাজ করছে, সেটিতে অস্বস্তিবোধ হচ্ছে।
প্রথম আলো :
অভিনয় থেকেও অনেক দিন দূরে আছেন।
আজমেরী হক বাঁধন : এ বছরে আমার দুটো সিনেমার কাজ শুরুর কথা ছিল। একটা ছিল সেপ্টেম্বরে, আরেকটার শুটিং পরিকল্পনা আমরা ডিসেম্বরে করেছিলাম। এর মধ্যে একটা কাজ সম্ভবত বাতিলই হয়ে গেছে। আরেকটা কাজ পিছিয়েছে, আগামী ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে। সামনের নভেম্বরে এশা মার্ডার ছবির বাকি অংশের শুটিং করব। রেজওয়ান শাহরিয়ার সুমিতের ‘মাস্টার’ ছবিটি করেছি। আর ওভাবে আসলে কাজের কথা হয়নি। আসলে গত ৫ বছরে আমি যেভাবে আমার জীবনযাপন ঠিক করেছি, এর মধ্যে খুব বেশি কাজ করা হয়নি। ‘রেহানা মরিয়ম নুর’ যখন করেছি, প্রায় তিন বছরের বিরতি নিয়েছি। তারপর ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেনি’ করেছি, ‘খুফিয়া’ করেছি, এরপর ‘এশা মার্ডার’ করলাম, ‘মাস্টার’ করলাম। খুবই অল্প কাজ করেছি। চেষ্টা করেছি, যে ধরনের কাজ করতে চাই, সেটিই যেন করতে পারি। এ জন্য গত পাঁচ বছরে খুব বেশি কাজ আমার ছিল না। এটা নিয়ে আমি হতাশও নই।



