Sunday, September 13, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

মোখায় লন্ডভন্ড মিয়ানমারে ত্রাণ বিতরণের অনুমতি মিলছে না

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ঘূর্ণিঝড় মোখায় লন্ডভন্ড মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে, জাতিসংঘসহ বিদেশি বিভিন্ন দাতা সংস্থার প্রতিনিধি দলকে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর অনুমতি দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত টম অ্যান্ড্রুজ।

শুক্রবার সিএনএনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জাতিসংঘের এই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘মিয়ানমারে বর্তমানে জাতিসংঘসহ কয়েকটি বিদেশি দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে বসে আছেন। ক্ষমতাসীন সামরিক সরকার তাদেরকে রাখাইনে গিয়ে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর অনুমতি এখনও দেয়নি, কবে দিতে পারে কিংবা আদৌ দেবে কিনা-এটাও অনিশ্চিত।

মোখায় লন্ডভন্ড মিয়ানমারে ত্রাণ বিতরণের অনুমতি মিলছে না

‘প্রতিনিধিদের যদি রাখাইনে যেতে দিতে জান্তার আপত্তি থাকে, সে ক্ষেত্রে তারা এসব
ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নিজেদের উদ্যোগে উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিতরণ করতে পারে। সেটিও তারা করছে না।’

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১০০০ সেনা নিহত

টম অ্যান্ড্রুজ জানান, ত্রাণ বিতরণের জন্য জান্তা প্রতিনিধিদের সঙ্গে জাতিসংঘ ও অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়মিত যোগাযোগ-আলোচনা চলছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত ইতিবাচক কোনো ফলাফল আসেনি।

রোববার (১৩ মে) প্রবল শক্তি নিয়ে মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনের উপকূলে আছড়ে পড়ে বঙ্গোপসাগরে উদ্ভূত ঘূর্ণিঝড় মোখা। ঝড়-বৃষ্টি ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় রাখাইন প্রদেশের রাজধানী সিতওয়েসহ বিভিন্ন অঞ্চল।

মোখায় লন্ডভন্ড মিয়ানমারে ত্রাণ বিতরণের অনুমতি মিলছে না

মোখাকে বিবেচনা করা হচ্ছে, এযাবৎকালে মিয়ানমারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে। রোববার ঝড়ের পর সোমবার এক বিবৃতিতে ৩ জন নিহতের তথ্য নিশ্চিত করেছিল জান্তা। পরে শুক্রবার আরেক বিবৃতি দিয়ে সামরিক সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঝড়ে রাখাইনে ১৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

তবে রাখাইন প্রদেশের কয়েকজন বাসিন্দা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা সরে যাওয়ার পর, রাখাইনের বিভিন্ন গ্রাম ও শহর থেকে ৪ শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনও নিখোঁজ আছেন বহু মানুষ।

আরও পড়ুন  মোখার তাণ্ডব মিয়ানমারে, রেড অ্যালার্ট জারি

এদিকে, ঝড়ে বাড়িঘর তছনছ এবং রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছেন রাখাইনের গ্রাম ও শহরাঞ্চলের লোকজন। অধিকাংশ এলাকায় দেখা দিয়েছে খাবার, সুপেয় পানি ও ওষুধের সংকট।

ওসিএইচএর এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ‘রাখাইনে ত্রাণ তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে আমাদের সামনে প্রতিবন্ধকতা ২টি-জান্তার বাধা ও তহবিলের স্বল্পতা।

/আবদুর রহমান খান/

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ