ভারত-চীন সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অরুণাচল প্রদেশের বিতর্কিত সীমান্তের কয়েকটি জায়গায় দুই দেশের সেনারা মুখোমুখি অবস্থানে আছেন বলে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) মহাপরিচালক শত্রুজিৎ সিং কাপুর। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট এ খবর দিয়েছে।
রাজস্থানে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের এক সমাবেশে কাপুর জানান, জুলাই মাসে এ মুখোমুখি অবস্থান শুরু হয় এবং তা এখনো চলছে। ৩১ অক্টোবর তাঁর অবসরে যাওয়ার কথা। এর আগে ইনডিপেনডেন্ট বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন করলে ভারতীয় সেনাবাহিনী তা অস্বীকার করেছিল।
আপার সুবানসিরিতে কী ঘটছে
পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, আপার সুবানসিরি জেলার তাকসিং, গেলেমো ও মাজা এলাকার কাছে চীনা সেনারা ভারত-দাবিকৃত ভূখণ্ডের দিকে এগিয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রে সীমান্তের কাছে চীনের নতুন সড়ক, ভবন ও হেলিপ্যাড দেখা গেছে। স্থানীয় আদিবাসীরা বলছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ব্যবহার করা চারণভূমি ও বনাঞ্চলে তাঁরা আর যেতে পারছেন না।
কাপুর আইটিবিপির প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো অস্ত্র দ্রুত আধুনিকায়নের তাগিদ দেন এবং আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন।
ভারত-চীন সীমান্ত নিয়ে দুই দেশের ভাষ্য
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, চীনা বাহিনী প্রচলিত টহলের ধরন থেকে সরে এলে মাঝেমধ্যে পরিস্থিতির অবনতি হয়; দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা আগের সব চুক্তি কঠোরভাবে মেনে চলছে এবং নিজেদের ভূখণ্ডে স্বাভাবিক টহল দিচ্ছে। এ নিয়ে সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেছে বিরোধী দল কংগ্রেস।
প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) নিয়ে দুই দেশের বিরোধ পুরোনো। ২০২০ সালে লাদাখের গালওয়ানে সংঘর্ষে ভারতের ২০ ও চীনের ৪ সেনা নিহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলের নির্বাচনে কেউ সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, রেকর্ড ১৯ আসনে আরব দলগুলো
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ
ছবি: Abhishek Gaurav, from Tezpur university, Assam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


