বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে তাকে নেওয়া হয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে পিবিআইয়ের ল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে রহস্য এখনো কাটেনি।
সিসিটিভিতে যা দেখা গেছে
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। ভবনের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে তিনি ও দ্বীপ আলাদা মোটরসাইকেলে বের হচ্ছেন। পরে উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে দুজনকে দেখা যায়। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে মাকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে তাহসিফ জানান, তিনি বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু আর ফেরেননি। বুধবার বিকেলে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বৃহস্পতিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্তের পর উত্তরায় তাকে দাফন করা হয়।
দ্বীপের দাবি ও তদন্ত
জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীপ দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তারা কথা বলছিলেন। তখন পুলিশের মতো দেখতে দুজনকে দেখে তারা দৌড় দেন; কিছু লোক ধাওয়াও করে। তাহসিফ তুরাগে ঝাঁপ দেন, আর তিনি সেখান থেকে পালিয়ে আসেন। পিবিআই জানিয়েছে, ওই দুই ব্যক্তির পরিচয় যাচাই চলছে এবং দ্বীপের দেওয়া প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে। তাহসিফের নিখোঁজ হওয়া ও মরদেহ উদ্ধারে দ্বীপের কোনো ভূমিকা আছে কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। মৃত্যুর কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
পরিবারের অভিযোগ
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেছেন, এটি আত্মহত্যা নয়। তার দাবি, ঘটনার সন্ধ্যায় দ্বীপই বাসার নিচে এসে তাহসিফকে ডেকে নেন। স্বজনেরা জানান, তাহসিফ যে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন, সেটিরও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের প্রত্যাশা, সঠিক তদন্ত হলে দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব।
আরও পড়ুন: নিখোঁজের পরদিন তুরাগ নদে মিলল বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তার মরদেহ
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, জাগো নিউজ
ছবি: Wonderlane / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0) — মূল ছবি


