শুক্রবার, অক্টোবর 30, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘পাওয়ার স্টার্ট’ অনুমোদন, ডিসেম্বরে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ যাওয়ার আশা

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছেছে। প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পরীক্ষামূলক ধাপ ‘পাওয়ার স্টার্ট’ বা সি-স্টেজ শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)। বৃহস্পতিবার বিকেলে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

এর আগে ১১ অক্টোবর বায়েরার অনুমোদন নিয়ে চুল্লিতে নিউক্লিয়ার ফিশন বা পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু হয়। সেই পর্বের ভৌত পরীক্ষার ফল পর্যালোচনার পর এবার পরের ধাপে যাওয়ার সবুজসংকেত মিলল।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এখন কী হবে

সি-স্টেজে চুল্লির শক্তি ধাপে ধাপে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে চুল্লি, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, টারবাইন, জেনারেটর, বৈদ্যুতিক ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিরাপদে ও স্থিতিশীলভাবে কাজ করছে কি না, তা যাচাই করা হবে। এ ধাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা।

আরও পড়ুন  সিলিন্ডার কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৫

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, উৎপাদন শুরু হবে শূন্য থেকে। সক্ষমতা ৩০ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে। ওই পর্যায়ে একটি ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, ডিসেম্বরেই তা সম্ভব হতে পারে। এরপর সাত থেকে আট মাস পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতে পারে।

৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ

গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৩৩তম দেশ, যারা পারমাণবিক শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট এখানে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

আরও পড়ুন  অতিরিক্ত আইজিপি হলেন ছয় কর্মকর্তা

সময় ও ব্যয় বেড়েছে

ফিশন শুরুর পরিকল্পনা ছিল সেপ্টেম্বরে, কিন্তু সেফটি ভালভ পরীক্ষায় ত্রুটি ধরা পড়ায় তা পিছিয়ে যায়। প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে; দুই দফা বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্য ২০২৮ সালের জুন। চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়লেও খরচ বাড়ার কথা নয়, তবে ডলারের দাম বাড়ায় ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এই একক প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকা।

আরও পড়ুন: ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বে পারমাণবিক বিদ্যুৎ তিন গুণ হতে পারে: আইএইএ

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো, এনপিসিবিএল

ছবি: Dean Calma / IAEA / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0) — মূল ছবি

আরও পড়ুন  বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩০ বিলিয়নের নিচে সর্বোচ্চ ছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ