নতুন বছরের প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই—এটি বহু বছরের এক আনন্দের রেওয়াজ। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী মাসের পর মাস সব বই পায়নি। সে বাস্তবতায় সরকার এবার ২৪ ডিসেম্বর, বার্ষিক পরীক্ষার ফলের দিনেই প্রাথমিকে পাঠ্যবই বিতরণ শুরুর পরিকল্পনা করেছে; মাধ্যমিকেও ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে বই দেওয়ার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। উদ্যোগটি স্বাগত জানানোর মতো।
লক্ষ্য বড়, চ্যালেঞ্জও বড়
২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ছাপা হবে ৩০ কোটি ৯২ লাখের বেশি কপি বই, খরচ প্রায় ১ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে চারটি নতুন বিষয়। এত বিপুল কাজ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে হলে টেন্ডার, কাগজ সরবরাহ ও ছাপাখানার তদারকি এখনই শক্ত করতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, সময় বাঁচাতে গিয়ে নিম্নমানের কাগজ, অস্পষ্ট ছাপা আর দুর্বল বাঁধাইয়ের বই শিক্ষার্থীদের হাতে গেছে; কয়েক মাসেই সেগুলো ছিঁড়ে যায়।
পাঠ্যবই বিতরণ: সঙ্গে যা নিশ্চিত করতে হবে
আমাদের মতে, তারিখ এগিয়ে আনার পাশাপাশি তিনটি বিষয়ে নজর দেওয়া জরুরি। প্রথমত, কাগজ ও ছাপার মান যাচাইয়ে স্বাধীন পরিদর্শন এবং নিম্নমানের বই সরবরাহকারীদের জরিমানা। দ্বিতীয়ত, নতুন বিষয়ের বইয়ে তথ্য ও বানান নির্ভুল রাখতে বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা। তৃতীয়ত, শিক্ষামন্ত্রী গাইড বই ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন; সেই সতর্কতা বাস্তবে রূপ দিতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মূল বই থেকেই শেখে।
শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই হাতে মানসম্মত বই থাকলে পড়াশোনার ক্ষতি কমে, অভিভাবকের খরচও কমে। ২৪ ডিসেম্বরের প্রতিশ্রুতি পূরণ হলে সেটিই হবে এবারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা-সুখবর।
আরও পড়ুন: আগামী বছর থেকে স্কুলে জাপানিসহ বিদেশি ভাষা শেখানোর পরিকল্পনা
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ, প্রথম আলো (সম্পাদকীয়)
ছবি: Shixart1985 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0) — মূল ছবি


