খতনা করানোর সময় শিশুকে কি পুরোপুরি অজ্ঞান করতে হয়, নাকি শুধু অস্ত্রোপচারের জায়গা অবশ করলেই চলে—এ প্রশ্ন অনেক অভিভাবকের। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেসথেসিয়া, পেইন মেডিসিন ও আইসিইউ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন মাজেদ চৌধুরী প্রথম আলোতে লিখেছেন, খতনায় অ্যানেসথেসিয়া নির্বাচন হয় রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা, উদ্বেগ ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে; সবাইকে অজ্ঞান করার নিয়ম নেই।
খতনায় অ্যানেসথেসিয়া কত রকম
- লোকাল অ্যানেসথেসিয়া: নির্দিষ্ট স্নায়ু বা অস্ত্রোপচারের স্থান অবশ করা হয়। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক সঠিক মাত্রায় দিলে অনেক ক্ষেত্রেই নিরাপদে খতনা করা যায়।
- সেডেশন বা হালকা ঘুম: ভয় বা অস্থিরতার কারণে স্থির থাকতে না পারলে দেওয়া হয়। এতে শ্বাস ও অক্সিজেনের মাত্রা কমার ঝুঁকি থাকে, তাই পর্যবেক্ষণ জরুরি।
- জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া: খুব ছোট শিশু, সহযোগিতা করতে অক্ষম রোগী বা বিশেষ শারীরিক অবস্থায় বিবেচনা করা হয়।
ঝুঁকি কী কী
খতনা সাধারণত নিরাপদ, তবে রক্তপাত, সংক্রমণ, ক্ষত শুকাতে দেরি বা ভুলভাবে চামড়া কাটা হতে পারে। লোকাল অ্যানেসথেসিয়ার ভুল বা অতিরিক্ত মাত্রায় বিরল ক্ষেত্রে স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদ্যন্ত্রে বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ায় শ্বাসকষ্ট, বমি বা অ্যালার্জির ঝুঁকি থাকে।
অভিভাবকেরা যা মনে রাখবেন
খতনার আগে শিশুর রক্তক্ষরণজনিত রোগ, ওষুধে অ্যালার্জি, জন্মগত অস্বাভাবিকতা বা চলমান অসুস্থতার কথা চিকিৎসককে জানাতে হবে। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, জীবাণুমুক্ত যন্ত্রপাতি এবং জরুরি পুনরুজ্জীবনের সরঞ্জাম আছে এমন জায়গায় খতনা করানো উচিত। খতনার পর অতিরিক্ত রক্তপাত, জ্বর, পুঁজ, বাড়তে থাকা ব্যথা-ফোলা বা প্রস্রাবে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
আরও পড়ুন: এশিয়ার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, দূষণে শীর্ষে লাহোর; ঢাকা ২০তম
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
ছবি: Piotr Bodzek, MD / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) — মূল ছবি


