বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 29, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

সেন্ট মার্টিন: পর্যটক বাড়ানোর আগে দ্বীপের বহনক্ষমতা মাপা জরুরি

১ নভেম্বর থেকে আবার পর্যটকে মুখর হবে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। এবার দৈনিক পর্যটকের সীমা দুই হাজার থেকে বাড়িয়ে সাড়ে তিন হাজার করা হয়েছে, রাতযাপনের সুযোগও দুই মাস থেকে বেড়ে সাড়ে চার মাস। পর্যটন ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সুখবর, কিন্তু দ্বীপের জন্য কতটা নিরাপদ—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

সেন্ট মার্টিন কতটা চাপ নিতে পারে

প্রথম আলোর প্রতিবেদন বলছে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের মতে দ্বীপের পরিবেশগত বহনক্ষমতা অনুযায়ী দিনে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ পর্যটক যুক্তিসংগত। পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নতুন সীমার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। আর মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, জাহাজ ও হোটেলমালিকেরা দিনে ছয় হাজার পর্যটক চেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন  পরিবেশবান্ধব সুন্দর শহর গড়তে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই: আমিনুল হক

গত দুই মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত পর্যটনের সুফলও দেখা গেছে। পর্যটন বন্ধ থাকার সময় সমুদ্রের পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন বাড়ার তথ্য এসেছে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণায়। সৈকতে বর্জ্য কমেছে। সীমা একলাফে ৭৫ শতাংশ বাড়ালে সেই অর্জন ধরে রাখা কঠিন হবে।

যা করা দরকার

আমাদের মতে, সেন্ট মার্টিন নিয়ে সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত তথ্য ও বিজ্ঞানের ভিত্তিতে, চাপের ভিত্তিতে নয়। প্রথমত, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সমুদ্র গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে হালনাগাদ বহনক্ষমতা সমীক্ষা করে সীমা পুনর্নির্ধারণ করা দরকার। দ্বিতীয়ত, সুপেয় পানি, পয়োবর্জ্য শোধন ও প্লাস্টিক অপসারণের সক্ষমতা না বাড়িয়ে পর্যটক বাড়ানো চলে না। তৃতীয়ত, পর্যটকদের কাছ থেকে নেওয়া ১০০ টাকার পরিবেশ সংরক্ষণ ফি কোথায় খরচ হচ্ছে, তা প্রকাশ্যে জানাতে হবে। চতুর্থত, রাতে সৈকতে আলো, উচ্চ শব্দ ও বারবিকিউর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে নজরদারি বাড়াতে হবে।

আরও পড়ুন  বিশ্লেষণ: জাপান সফরে কী পেতে পারে বাংলাদেশ

সেন্ট মার্টিন হারালে তা আর ফিরিয়ে আনা যাবে না। পর্যটন চলুক, তবে দ্বীপের সামর্থ্য মেনে।

আরও পড়ুন: সেন্ট মার্টিন ভ্রমণে যাবেন? জেনে রাখুন জরুরি তথ্য

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

ছবি: Khondoker Zobaed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0) — মূল ছবি

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ