কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্যসেবার যে চিত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এসেছে, তা আসলে দেশের গ্রামীণ স্বাস্থ্যব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। উপজেলার স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসকের ৬০টি পদের অর্ধেকই খালি। চার মাসের বেশি সময় প্রসূতি অস্ত্রোপচার বন্ধ, প্রায় চার বছর অবেদনবিদ নেই। মহাসড়কের পাশে নির্মিত শহীদনগর ট্রমা সেন্টার দুবার উদ্বোধনের পরও কার্যকর হয়নি। ফলে মানুষকে বাড়তি খরচে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর বা বেসরকারি হাসপাতালে।
চিকিৎসক-সংকট শুধু একটি উপজেলার নয়
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ১১ হাজার ৪৯৫টি শূন্য—প্রায় চার ভাগের এক ভাগ। এর সঙ্গে আছে ‘সংযুক্তি’র নামে চিকিৎসকদের অন্যত্র কাজ করা এবং দীর্ঘ অনুপস্থিতি। কাগজে পদায়ন থাকলেও রোগী চিকিৎসক পান না।
প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি উপজেলা হাসপাতালের শয্যা ৫০ থেকে ১৫০ করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এটি ভালো উদ্যোগ, কিন্তু চিকিৎসক, নার্স ও অবেদনবিদ না থাকলে বাড়তি শয্যা কেবল খালি খাটই হবে।
সমাধানের পথ
আমাদের মতে, তিনটি কাজ এখনই দরকার। এক, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ এবং বিশেষজ্ঞ পদ—বিশেষ করে গাইনি ও অ্যানেসথেসিয়া—অগ্রাধিকার দিয়ে পূরণ। দুই, ‘সংযুক্তি’ প্রথা কঠোরভাবে সীমিত করা, যাতে পদায়িত চিকিৎসক কর্মস্থলে থাকেন। তিন, প্রত্যন্ত এলাকায় থাকার প্রণোদনা—আবাসন, নিরাপত্তা, সন্তানের শিক্ষার সুযোগ, অতিরিক্ত ভাতা এবং পদোন্নতিতে গ্রামীণ সেবার মূল্যায়ন। চিকিৎসকেরা কেন উপজেলায় থাকতে চান না, সে কারণগুলো চিহ্নিত না করলে নিয়োগ দিয়েও সংকট মিটবে না।
স্বাস্থ্যসেবা দয়া নয়, নাগরিকের অধিকার। উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত হলে বড় হাসপাতালের চাপও কমবে।
আরও পড়ুন: শিশুর খতনায় কি পুরো অজ্ঞান করতেই হবে? যা বলছেন অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো (সম্পাদকীয়), জাগো নিউজ
ছবি: DelwarHossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


