রেলের টিকিট কালোবাজারি নিয়ে নিরীক্ষায় গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর অনলাইন টিকিট বিক্রির ঠিকাদার সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জয়েন্ট ভেঞ্চারের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। অভিযোগ রয়েছে, অনলাইনে টিকিট বিক্রি শুরু হতেই বট দিয়ে টিকিট কেটে নিয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে।
নিরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় বলা হয়েছে, bookmyrailbd.com নামের একটি অননুমোদিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বট চালিয়ে টিকিট আটকে রেখে বাড়তি দামে বিক্রি করা হতো। অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড থেকে বিক্রি শুরুর কয়েক দিন আগেই টিকিট আটকে রাখার সুযোগ ছিল। প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে, যার কিছু স্টেশনমাস্টারদের নামে নিবন্ধিত হলেও চালাতেন সহজের কর্মীরা। এতে ঠিকাদারের প্রতিনিধি ও বুকিং সহকারীদের যোগসাজশের আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।
নিরীক্ষায় অনলাইন টিকিটের রাজস্ব ট্রেজারিতে কম জমা দেওয়ার মতো আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও আছে। ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছর পর্যন্ত সময় নিয়ে করা এই নিরীক্ষায় রেলের মহাপরিচালকের কাছে ২২টি নিরীক্ষা আপত্তি পাঠানো হয়েছে। সন্দেহজনক প্রায় ১০ হাজার মোবাইল ও এনআইডি নম্বর ব্লক করা হয়েছে। এ ছাড়া সহজের কাছ থেকে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা এখনো আদায় হয়নি।
রেলওয়ে ও সহজের বক্তব্য
রেলওয়ের মহাপরিচালক আফজাল হোসেন জানান, এসব কার্যক্রম এখন রেলের অপারেশন ও বাণিজ্যিক বিভাগের অধীনে আনা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে নতুন টিকিটিং এজেন্সির দরপত্র আহ্বানের কথাও বলেছেন তিনি। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেওয়া সহজের পাঁচ বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে।
সহজ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী লে. কর্নেল (অব.) আমিনুল হক লিখিত বক্তব্যে জানিয়েছেন, তাঁরা ব্যাখ্যা জমা দিয়েছেন এবং নিরীক্ষায় সহযোগিতা চালিয়ে যাবেন; এ পর্যায়ে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। রেলওয়ে আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ব্যাখ্যাটি পর্যালোচনা করছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল ১৩টি ট্রেন
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
ছবি: Anik Sarker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


