বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পাঁচ বছর পূর্ণ হলো আজ। অথচ তাঁর মা রোকেয়া খাতুনের কাছে মনে হচ্ছে, এ যেন সেদিনের ঘটনা! আবরার আম্মু বলে ডাকছে, আম্মু খাবার দাও বা আম্মু এটা রান্না করো, ওটা রান্না করো। আবরারের স্মৃতি আঁকড়ে ধরে এখনো ঘরের কোনায় কোনায় কেঁদে বেড়ান তিনি। তাঁর কান্না থামতেই চায় না।
আবরারের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পরও খুব একটা ঘরের বাইরে যান না তিনি। ঘরে বসে নামাজ কালাম আর ছেলের নানান স্মৃতি রোমন্থন করেই সময় কাটান তিনি।
আবরারের বাবা, মা ও একমাত্র ছোট ভাই কুষ্টিয়া শহরে থাকেন। বাবা বরকত উল্লাহ বিশেষ প্রয়োজনে কুষ্টিয়ার বাইরে রয়েছেন। ছোট ভাই আবরার ফায়াজ বুয়েটে পড়েন। আবরারের মা বলেন, ‘আবরার হত্যার পর ওর বাবা প্রথমে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা করেছিলেন। পরে গ্রেপ্তারকৃতদের জবানবন্দিতে আরো ছয়জনসহ মোট ২৫ জন এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রমাণিত হয়। ২৫ আসামির মধ্যে ২২ জন জেলহাজতে রয়েছে। মামলাটি এখন উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে রয়েছে। নিষ্পত্তি হতে আরো বছরখানেক লাগতে পারে। এরপর রায় কার্যকর করার পর্যায়ে আসবে।’
তিনি বলেন, ‘আমার দাবি, পলাতক তিন আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক এবং সব আসামির রায় কার্যকর করা হোক।’
রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘আমার সন্তানকে হত্যার পেছনে আরো যদি কেউ কলকাঠি নেড়ে থাকেন, তাঁদেরও মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানাই। রায়ে আদালত ২০ জনের ফাঁসি ও পাঁচজনের যাবজ্জীবন দিয়েছেন। তবে আসামি অমিতের ফাঁসি না হওয়ায় আমি মর্মাহত।’
রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘শেষবার ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর সকালে আমি ওকে মাছ-ভাত খাইয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় বাসে তুলে দিয়েছিলাম। সন্ধ্যার আগে হলে পৌঁছে ও আমাকে ফোন দিয়েছিল। আমি বলেছিলাম, আব্বু আমি তোমাকে যে খাবার দিয়েছি, তুমি কাপড় ছেড়ে খাবারগুলো খেয়ে নাও। এই ছিল ছেলের সঙ্গে আমার শেষ কথা।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ওই দিন আমি মুরগির মাংস ও চালের রুটি করে দিয়েছিলাম। কিন্তু ও খেতে পেরেছিল কি না জানি না।’
আবরারের মমতাময়ী মা রোকেয়া খাতুন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি সবার কাছে আপনাদের মাধ্যমে আমার ছেলেটার জন্য দোয়া চাচ্ছি। আপনারা দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন আমার ছেলেটাকে জান্নাতবাসী করেন।’


