ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল হওয়া একের পর এক থাপ্পড়ের ভিডিও আসলে সাজানো। চাঁদাবাজ, ভুক্তভোগী বিক্রেতা আর প্রতিবাদকারী—সবাই একই দলের অভিনেতা। প্রথম আলোর এক অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
গত ১৫ অক্টোবর ‘Restart 420 Shorts’ নামের একটি ফেসবুক পেজে ‘কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি, ভোগান্তিতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। এতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি সবজি বিক্রেতার কাছে টাকা চেয়ে হুমকি দিচ্ছেন ও চড় মারছেন; পরে আরেক ব্যক্তি এসে তাঁকে ১১টি থাপ্পড় দেন। ভিডিওটি ১২ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে, মন্তব্য পড়েছে হাজারের বেশি।
থাপ্পড়ের ভিডিও বানানো পেজের অনুসারী লাখো
- ফেসবুক পেজে অনুসারী প্রায় ৭ লাখ ৮২ হাজার
- একই নামের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইবার প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার
- দুই প্ল্যাটফর্মে অন্তত ৩০০ ভিডিও
- একটি ভিডিও দেখা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ বার
কাঁচাবাজার, ফুটপাত ও শপিং মলের সামনে এসব ভিডিও ধারণ করা হয়। প্রায় প্রতিটি ভিডিও শুরু হয় থাপ্পড় দিয়ে, কিন্তু ক্যাপশনে কোথাও বলা হয় না যে দৃশ্যগুলো সাজানো। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল এমন একটি ভিডিওকে সত্য ঘটনা ভেবে প্রচারও করেছিল, পরে তা সরিয়ে নেয়।
দলনেতা ও বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন
দলের প্রধান রিপন মৃধার দাবি, বাস্তব সমস্যা পুনর্নির্মাণ করে সচেতনতা তৈরিই তাঁদের উদ্দেশ্য; দর্শক ধরে রাখতেই থাপ্পড় ব্যবহার করা হয়। পরে লাইভে এসে তাঁরা ভিডিওগুলো সাজানো বলে জানিয়েছেন।
তবে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালি রাইটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিরাজ আহমেদ চৌধুরী একে মনিটাইজেশনের লোভে এক ধরনের প্রতারণা বলে মন্তব্য করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকাশ্যে থাপ্পড়ের দৃশ্য সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে এবং সাজানো ঘটনাকে সত্য বলে প্রচার করা প্রতারণা।
আরও পড়ুন: দুই দিনে কোটি ভিউ, আলোচনায় অপূর্ব-নীহার ‘ভালো আছো তো?’
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
ছবি: mohigan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) — মূল ছবি


