
ন্যাশনাল ডেস্ক
সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে, অংশ নিচ্ছে না বিএনপি। তবে দলটির মনোনয়নে দুবার নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, প্রার্থিতার বিষয়ে ২০ মে জনসভা করে সিদ্ধান্ত জানাবেন। এর ফাঁকে তিনি বোঝার চেষ্টা করছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁর লাভ, নাকি লোকসান। এসব চিন্তাভাবনা শেষেই প্রার্থিতার বিষয়ে আরিফুল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন জানান, বিএনপি বর্তমান সরকারের অধীন কোনো নির্বাচনেই যাচ্ছে না। আরিফুল হক চৌধুরী যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মানুষ, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, তাই তিনি নিশ্চয়ই দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তই নেবেন।
মেয়র আরিফুল হক লন্ডন সফর শেষে রোববার সিলেট ফিরেছেন। বিএনপির একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মূলত নির্বাচন নিয়ে সরকারের অবস্থানসহ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতেই প্রার্থিতা ঘোষণার বিষয়ে আরিফুল হক কৌশলী ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি এখন তিনটি বিষয় নিয়ে ভাবছেন। প্রথমত, দলের বিরোধিতা করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে বিএনপির রাজনীতিতে পুনরায় ফিরতে পারবেন কি না। দ্বিতীয়ত, সরকারের তরফ থেকে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা থাকবে কি না। তৃতীয়ত, বিএনপি নির্বাচনে না আসায় আরিফুল–সমর্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেওয়ার ব্যাপারে শঙ্কা আছে। নির্বাচনে তাঁরা এজেন্টের দায়িত্বও পালন করতে পারবেন না। এতে ৪২টি ওয়ার্ডের মোট ১৯০টি কেন্দ্রে বিশ্বস্ত এজেন্ট পাওয়া দুষ্কর। মূলত, এই তিন হিসাবের সমীকরণ তিনি ইতিবাচকভাবে মেলাতে পারলেই নির্বাচনে যাবেন, নতুবা প্রার্থী হবেন না।
১ মে মহান মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রধান অতিথির বক্তৃতায় নিজের প্রার্থিতার বিষয় স্পষ্ট না করলেও সিলেটের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে ইঙ্গিত দেন।
যোগাযোগ করলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ‘সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হব কি না, এ নিয়ে ২০ মের আগে কিছু বলতে চাই না। ওই দিনই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করব।’ কিন্তু এই সিদ্ধান্ত জানাতে এতটা সময় নেওয়ার কারণ কী, এর জবাবে মেয়র বলেন, ‘৪২টি ওয়ার্ডে আমার কর্মী-সমর্থক-ভোটারদের সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলছি। তাঁদের পরামর্শ নিচ্ছি। তাঁদের পরামর্শের আলোকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাব।’
আরিফুল হকের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, ঈদের পর থেকেই আরিফুল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন। বিশেষ করে নগরের বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডের ভোটারদের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করছেন। নগরের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় প্রতিনিধি, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতা, বিএনপিপন্থী কাউন্সিলর এবং বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে প্রায় সবাই তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করেন।
/আবদুর রহমান খান/



