
কাজী বেলায়েত হোসেন
বিশ্ববাজারে আমাদের দেশে উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির চাহিদা যতটুকু ছিল, তা–ও সাম্প্রতিক সময়ে কমে গেছে। এর কারণ অর্থনৈতিক অস্থিরতা।
বর্তমানে চিংড়ির উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দাম অফার করছেন বিদেশি ক্রেতারা। ফলে রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে হলে আমাদের খরচ কমাতে হবে। আর খরচ কমানোর অংশ হিসেবে আমরা উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে এবং নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার করতে এনবিআরকে অনুরোধ করেছি।
চিংড়ি ।। ছবি: বিএফএফইএ
অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানিতে ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। আমরাও তো কৃষিপণ্যই রপ্তানি করছি। হিমায়িত খাদ্যে যদি ২০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা দেওয়া হতো, তাহলে আমরাও বিদেশি ক্রেতাদের কিছু কম দামে পণ্য দিতে পারতাম। সেটি হলে রপ্তানি বাড়বে।
বর্তমানে বাংলাদেশের হিমায়িত খাদ্য রপ্তানি খাত একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা উচ্চফলনশীল ভেনামি চিংড়ির যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে এই জাতের চিংড়ির পরীক্ষামূলক চাষ সফল হয়েছে। তবে এখনো ভেনামির পোনা উৎপাদনের জন্য হ্যাচারির অনুমোদন পাওয়া যায়নি।
হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাত কারখানায় কাজ করছেন নারী শ্রমিকের, ছবি: বিএফএফইএ
আমরা তিন-চারটি হ্যাচারির অনুমোদন চেয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। কারণ, বিদেশ থেকে পোনা আমদানি করে খরচে পোষানো যাবে না। যদিও চলতি বছর আমরা আমদানি করা পোনা দিয়েই উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা করছি।
কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা চিংড়ি প্যাকেটজাত করছেন একজন নারী শ্রমিক
কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করা চিংড়ি প্যাকেটজাত করছেন একজন নারী শ্রমিকছবি: বিএফএফইএ
তাই ভেনামি চিংড়ি চাষে হ্যাচারির অনুমোদন পেয়ে পোনা উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক চাষ সফলভাবে শুরু না হওয়া পর্যন্ত হিমায়িত খাদ্যের রপ্তানি টিকিয়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের সহায়তা দিতে হবে।
লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএফইএ)
সুত্র: প্রথম আলো



