
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক:
কোনো কিছুর অভ্যাস গড়তে চাইলে সেটা প্রতিনিয়ত করতে হয়। খুশি থাকা বা সুখ অনুভব করার বিষয়টাও সেরকম। অনেকে আবার এমনিতেই হাসিখুশি থাকতে পারেন। এটা তাদের জন্মগত বিষয়।
২০২২ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’ অনুসারে কিছু মানুষ প্রাকৃতিকভাবেই সুখী, তারা ভাগ্যবান। এটা অনেকটা বংশগতির ওপর নির্ভরশীল।
“সাধারণভাবে ধরে নেয়া হয়, সুখের জন্য আমাদের নির্দিষ্ট কোনো বিষয় প্রয়োজন। এটা খেলে ভালো লাগবে, ওটা পেলে খুশি হব- এরকম আর-কি।” এভাবেই মন্তব্য করেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া’র মনরোগ বিভাগের অধ্যাপক ড. এলিসা এপেল।
‘দি স্ট্রেস প্রিসক্রিপশন: সেভেন ডেজ টু মোর জয় অ্যান্ড ইজ’ বইয়ের এই লেখক রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলেছেন, “আমরা একদিন ভালো বোধ করবো, এই আশা করে বসে থাকতে পারি না। ভাবনার চাইতেও আমরা নিজেদেরকে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। ইচ্ছা করলেই আমরা এই মুহূর্তে ভেবে নিতে পারি কী করলে আমাদের ভালো লাগবে। ছোট ছোট বিষয় মনের আনন্দ বাড়াতে সাহায্য করে।”
কোনো জাদুকরী মন্ত্র ছাড়াই ব্যক্তিত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে সুখী থাকা যায। তবে বিষয়টা আবার অত সোজাও না। সুখী হওয়ার জন্য সুখকে বেছে নিতে হবে। তবে এরজন্য চাই অভ্যস্ততা।
এপেল ব্যাখ্যা করেন, “কোনো জিনিস বার বার করলে অভ্যাসে পরিণত হয়। আবার যখন কোনো অভ্যাসের কারণে মানসিকভাবে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায় তখন সেটা আমরা বার বার করার চেষ্টা করি। তাই যদি ইতিবাচক অভ্যাস গড়া যায় তবে মন আনন্দ থাকার পরিমাণও বাড়বে।”
এপেল’য়ের নিজস্ব গবেষণা ‘দি বিগ জয় প্রোজেক্ট’য়ে দেখা গেছে, খুবই ছোট অভ্যাস রপ্ত করার মাধ্যমে আনন্দের অনুভূতি বাড়ানো যায়।
তিনি বলেন, “স্নায়ু-বিজ্ঞান, সাইকোলজি, ওষুধ, জনস্বাস্থ্য ও অন্যান্য মাধ্যমসহ জীবনের অভিজ্ঞতা লাভের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি থেকে আমরা হাজার বছর ধরে একটাই বিষয় বুঝতে পারি- যদি বেছে নিতে পারি তবে আনন্দের উৎস আমাদের মধ্য থেকেই আসবে। এমনকি ছোটখাট বিষয়গুলো সুখের দিকে ধাবিত করবে, ফলে সেটা অভ্যাসে পরিণত হবে।”
কাউকে ছোটখাট জিনিস উপহার দিতে পারেন, তাদের ভালোলাগাতে আপনারও ভালোলাগবে। পাঠাতে পারেন বন্ধুতে মজার কোনো ‘টেক্সট’, পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের ফোন দিয়ে কথা বলতে পারেন, ফেইসবুক বা ইন্সটাগ্রামে দিতে পারেন ইতিবাচক ‘পোস্ট’, কোথাও পড়ে থাকা ময়লা নিদিষ্ট জায়গায় ফেললেন, বাড়িতে ডেলিভারি দিতে আসা মানুষটাকে চা কিংবা এক গ্লাস পানি দিতে পারেন।
এপেল বলেন, “বড় কিছু করার প্রয়োজন নেই। প্রতিদিন এরকম অন্তত পাঁচটি কাজ করার চেষ্টা করে যান।
“এটা আপনার অনুভূতি উন্মুক্ত করে মন ভরাবে।”
/আবদুর রহমান খান/



