বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কাগজে-কলমে প্রায় ৪ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃত প্রবৃদ্ধি প্রায় শূন্য বলে মনে করেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিন। তাঁর মতে, জমা হওয়া সুদ ও জোরপূর্বক ঋণ বাদ দিলে নিট প্রবৃদ্ধি নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) ১১তম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শিল্পে বিনিয়োগের চাহিদা নেই
মাসরুর আরেফিন বলেন, মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বা কারখানা সম্প্রসারণের জন্য বড় ঋণপত্রের (এলসি) চাহিদা ব্যাংকগুলো পাচ্ছে না। পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স (পিএমআই) জুলাইয়ের ৫৭.৮ থেকে সেপ্টেম্বরে ৪৮.৬-এ নেমেছে, যা সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, স্থবির রপ্তানি, কম আমদানি ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
খেলাপি ঋণ প্রায় ৩০ শতাংশ
তিনি জানান, খেলাপি ঋণ এখন প্রায় ৩০ শতাংশ, যা আগে ৯ শতাংশ বলে দেখানো হতো। এই বাস্তবতা স্বীকার করাকেই পুনরুদ্ধারের সূচনা বলে মনে করেন তিনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ, পর্ষদ পুনর্গঠন ও নতুন এমডি নিয়োগে সুশাসনের উন্নতি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন এবিবি চেয়ারম্যান।
নীতি সুদহার ৯.৫ শতাংশ ও মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ থাকার মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে সম্প্রসারণমূলক প্যাকেজ দিচ্ছে, অন্যদিকে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছে—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয়ের আহ্বান জানান তিনি। স্থিতিশীল বিনিময় হার, চলতি হিসাবের উদ্বৃত্ত ও আইএমএফ কর্মসূচি পুনরায় চালু হওয়াকে ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন তিনি। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, জেনেশুনে আর কোনো খারাপ ঋণ দেওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: ব্যাংকের পর্ষদে এক পরিবার থেকে দুজনের বেশি পরিচালক নয়, আইন সংশোধনের প্রস্তাব
তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার
ছবি: CAPTAIN RAJU / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


