সৌদি আরবের রিয়াদসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হুতিদের ধারাবাহিক হামলা এবং ফ্লাইট স্থগিতের মধ্যে বড় প্রশ্ন হলো—সংকট দীর্ঘ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি কতটা ঝুঁকিতে পড়বে।
রেমিট্যান্সে সৌদির ভাগ বাড়ছে
প্রবাসী আয় বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৭.৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে মোট প্রায় ৮৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্সের মধ্যে সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার, যা মোটের ১৯.২০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ১৬.২৬ শতাংশ।
শ্রমবাজারে নির্ভরতা
২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে বিদেশে যাওয়া প্রায় ৯৬ লাখ বাংলাদেশি কর্মীর প্রায় অর্ধেকই গেছেন সৌদি আরবে। তাঁরা বছরে প্রায় ৫০০ কোটি ডলার দেশে পাঠান। অথচ বিদেশে কর্মসংস্থান এমনিতেই কমছে—জুলাই-আগস্টে তা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কমে ১ লাখ ৩৪ হাজারে নেমেছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় ১৪৪টি ফ্লাইটের প্রায় ২২ হাজার যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কী হতে পারে
- স্বল্পমেয়াদে: রেমিট্যান্স হঠাৎ কমার আশঙ্কা কম, কারণ নতুন কর্মীরা সাধারণত এক বছর পর থেকে উল্লেখযোগ্য অর্থ পাঠাতে শুরু করেন।
- দীর্ঘমেয়াদে: সংকটে সৌদি অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নিয়োগ কমবে, কর্মীদের আয়ও কমতে পারে।
- ভিন্ন সম্ভাবনা: তেলক্ষেত্র হামলা থেকে রক্ষা পেলে তেলের দাম বাড়ায় সৌদির আয় ও শ্রমিক চাহিদা বাড়তেও পারে।
করণীয়
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলছেন, পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তিনি জাপান ও পূর্ব ইউরোপের মতো নতুন শ্রমবাজার ধরার পরামর্শ দেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞ তাসনিম সিদ্দিকী মনে করেন, বাজেটের মাত্র ০.০৮ শতাংশ পাওয়া জনশক্তি খাতের আমূল সংস্কার দরকার। অর্থনীতিবিদ সায়েমা হক বিদিশাও গন্তব্য দেশ বৈচিত্র্যময় করার ওপর জোর দিয়েছেন।
একক বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমানো এবং দক্ষ কর্মী পাঠানোর দিকে নজর দেওয়াই এই ঝুঁকি মোকাবিলার টেকসই পথ।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফা আলোচনা শুরু
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএমইটি, দ্য ডেইলি স্টার
ছবি: B.alotaby / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


