
বিনোদন ডেস্ক:
রাজধানীর উত্তরায় গত ১৭ মে রেললাইনের ওপরে পোষা দুই হাতিকে কলাগাছ খাওয়াচ্ছিলেন মাহুত। এমন সময় একটি দ্রুতগামী ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলে একটি হাতি মারা যায়। নিহত হাতিটির বয়স আনুমানিক আট বছর।
এ ঘটনায় সোশ্যার মিডিয়ায় আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন, জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। মঙ্গলবার (২৩ মে) ফেসবুকে জয়া লেখেন, ‘এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলো, কিন্তু উত্তরায় মারা পড়া হাতির বাচ্চাটার কথা মন থেকে কোনোভাবেই সরিয়ে দিতে পারছি না।

সেই কিশোরীবেলা থেকেই হাতি আমার মনোরম কল্পনার প্রাণী। শুধু আমার কেন, হাতি ছানাকে ভালোবেসে বড় হয়নি কে? কোনো প্রাণীকে দেখে আমরা ভয় পাই। কোনো প্রাণীর সৌন্দর্যে বিস্মিত হই।
কিন্তু হাতি? হাতি তো সব সময়ই আমাদের প্রাণী। হাতির ছানা তো আরও। রূপকথায়, মেঘের আকারে, অ্যানিমেশনে বন্ধু হিসেবে হাতিকে মনের রঙিন কল্পনায় মধ্যে জায়গা দিয়ে আমরা বড় হয়েছি।’
জয়া আরও লেখেন, ‘এমন একটি আদুরে হাতির ছানা কী মর্মান্তিকভাবেই না মারা পড়ল। উত্তরায় রেললাইনের পাশে মা হাতির সঙ্গে ছানাটিও কলাগাছ খাচ্ছিল। এমন সময় ট্রেন এসে পড়ে। ট্রেনের চালক কাওছার হোসেন জানান, একশ মিটার দূরে থাকতে হাতিটি তাদের নজরে আসে। তখন তারা হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন থামানোর চেষ্টা করেন। ট্রেন থামতে দুইশ থেকে তিনশ মিটার জায়গা লাগে। ফলে দুর্ঘটনাটি এড়ানো যায়নি। হুইসেলের শব্দে হাতির শাবকটি ভয় পেয়ে দৌড় দিতে শুরু করে।’

আবেগপ্রবণ হয়ে জয়া লেখেন, “কিন্তু যন্ত্রসভ্যতার আইনকানুন বেচারা জানবে কোত্থেকে? সে দৌড়াতে শুরু করে রেললাইনেরই ওপর দিয়ে। ট্রেন ওর ওপরে এসে পড়ে। ওকে হিঁচড়ে নিয়ে যায় বহুদূর পর্যন্ত। শহরে অচেনা এই আগন্তুক লাশ হয়ে যায়। ট্রেনচালক কাওছার হোসেন প্রশ্ন করেছেন, ‘বন্যপ্রাণী কেন রেললাইনে থাকবে? হাতির তো লোকালয়ে আসারই কথা নয়।’ এটা আমাদেরও প্রশ্ন।”
বন্যপ্রাণী আইন নিয়ে জয়া লেখেন, ‘যার ঘুরে বেড়ানোর কথা অরণ্যের সবুজে, ওর আপন পৃথিবীতে, সেও কেন ওর অচেনা লোকালয়ে আসবে? আইইউসিএস বলছে, এশিয়ান হাতি তাদের লাল তালিকায় থাকা মহাবিপদাপন্ন প্রাণী। যত্ন না নিলে ম্যামথের মতো একদিন হারিয়ে যাবে তারা।
হাতি টিকে থাকবে শুধু গল্পগাথার অস্পষ্ট স্মৃতির ভেতরে। তেমন পৃথিবীই কি আমরা চাই? হাতি লোকালয়ে আসছে তার পেছনে আছে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন ২০১২–এর ২ উপধারা। সেখানে বলা হয়েছে, সনদ নিয়ে হাতি লালন-পালন করা যাবে। তবে সনদ নেয়ার আগে নিশ্চিত হতে হবে পালনকারীর হাতি পালন করার মতো পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং হাতির বেঁচে থাকার মতো পুরো সুযোগ-সুবিধা দেয়ার সক্ষমতা আছে কিনা।’

অভিনেত্রীর মতে, ‘বন্যপ্রাণীদের নিয়ে পৃথিবীজুড়ে ভাবনা বদলে যাচ্ছে। আমরা কি একগুঁয়ের মতো পৃথিবীর বাইরে থাকতে চাই? মহাবিপদাপন্ন একটি প্রাণীকে কোনোভাবেই আমরা তাদের নিজস্ব পরিবেশের বাইরে এনে আটকে রাখতে পারি না। তাই এই আইনটি এখন বাতিল করার সময় এসেছে।
আমরা বন উজাড় করছি। হাতির বুনো চলাচলের পথ বন্ধ করে আবাস করছি। হাতির বেঁচে থাকার কোনো জায়গাই অবশিষ্ট রাখছি না। পৃথিবীর বিচিত্র প্রাণসত্তার রঙিন সৌন্দর্য টিকে থাকবে কিনা, সেটা নির্ভর করছে আমাদের দয়ার ওপর।
/আবদুর রহমান খান/



