লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইফতেখার হোসেন বলেন, ‘সোমবার সন্ধ্যার পর পাহাড়পুর সীমান্ত দিয়ে ভারতের ২৫ গজ অভ্যন্তরে কামাল হোসেন নামের ওই যুবক গিয়েছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা তাঁর ওপর গুলি চালান। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে বিএসএফের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ নিয়ে গেছেন।’
ইফতেখার হোসেন আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই আমাদের পক্ষ থেকে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিহত ব্যক্তির মরদেহ ফিরিয়ে আনা হবে। ওই যুবক কেন ভারতের অভ্যন্তরে গিয়েছিলেন, সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি মাদক বা চোরাকারবারে যুক্ত কি না, সেটি এখনো জানা যায়নি। এ বিষয়ের বিস্তারিত পরে বলা যাবে।’
নিহত কামালের বড় ভাই হিরন মিয়া বলেন, সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার গলিয়ারা দক্ষিণ ইউনিয়নের যশপুর বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়পুর সীমান্তে কামাল হোসেনকে ভারতের বিএসএফ সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেন। পরে বিএসএফ একটি অ্যাম্বুলেন্সে কামালের মৃতদেহ তুলে নিয়ে যায়। কামাল মাদক বা চোরাকারবারের সঙ্গে জড়িত নন। তিনি পিঁপড়ার বাসা ভেঙে পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করতেন। এতে যা আয় হতো, তা দিয়ে সংসার চলত তাঁর।
এর আগে গত ৯ জুন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক আনোয়ার হোসেন (৫০) নামের বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন। ওই দিন সকাল আটটার দিকে উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নের জামতলা গ্রামের ৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার ওই ইউনিয়নের মিরপুর গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে।
ঘটনার পর বিজিবি জানিয়েছিল, নিহত আনোয়ার অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করেন। তিনি চিনি চোরাকারবারির কাজ করতেন।