চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) মাত্র ৩.৮৯ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে, যা অন্তত ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। প্রশ্ন হলো, উন্নয়ন ব্যয়ের এই ধীরগতি সাধারণ মানুষের জীবনে কী প্রভাব ফেলবে।
চাহিদা ও কর্মসংস্থানে চাপ
সরকারি প্রকল্পের অর্থ সরাসরি নির্মাণ, সিমেন্ট, রড, পরিবহন ও শ্রমবাজারে যায়। এই ব্যয় কমলে নির্মাণশ্রমিক থেকে শুরু করে ছোট ঠিকাদার পর্যন্ত সবার আয় কমে। অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বেসরকারি বিনিয়োগ যখন এমনিতেই দুর্বল, তখন সরকারি ব্যয়ও কমে গেলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে উদ্বেগ বেশি
প্রথম তিন মাসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ বরাদ্দের মাত্র ১.৭৮ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে। হাসপাতাল নির্মাণ, যন্ত্রপাতি কেনা ও সেবার মানোন্নয়নের প্রকল্প পিছিয়ে গেলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ রোগীদের ওপর।
বছর শেষের তাড়াহুড়ার ঝুঁকি
সাধারণত অর্থবছরের শেষ দিকে তাড়াহুড়া করে বেশি টাকা খরচের প্রবণতা দেখা যায়। এতে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং অপচয়ের ঝুঁকি বাড়ে।
করণীয়
- প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া দ্রুত করা
- অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পে বরাদ্দ কেন্দ্রীভূত করা
- প্রতি মাসে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অগ্রগতি প্রকাশ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা
অর্থনীতি যখন প্রবৃদ্ধির ধীরগতি ও ঋণ পরিশোধের চাপে রয়েছে, তখন উন্নয়ন বাজেটের সময়মতো ও মানসম্মত বাস্তবায়নই হতে পারে পুনরুদ্ধারের অন্যতম চালিকাশক্তি।
আরও পড়ুন: ভরিতে ৩,৩২৪ টাকা কমল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট এখন ২,২০,৮৫৮ টাকা
তথ্যসূত্র: আইএমইডি, দ্য ডেইলি স্টার
ছবি: M.parvage / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


