ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পোপ যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিলেন। শিকাগোতে জন্ম নেওয়া পোপ লিও চতুর্দশ আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য ডাকযোগে (মেইল-ইন ব্যালট) নিজের ভোট দিয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) ভ্যাটিকান বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ভ্যাটিকানের বিবৃতিতে বলা হয়, পোপ একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যোগ্য হলে তিনি সব সময়ই ভোট দিয়ে এসেছেন এবং গণতন্ত্রে অংশ নেওয়াকে নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব বলে মনে করেন। তবে তিনি কাকে ভোট দিয়েছেন, তা জানানো হয়নি।
পোপ লিও কীভাবে ভোট দিতে পারলেন
পোপ লিওর আসল নাম রবার্ট প্রেভোস্ট। তিনি একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, পেরু ও ভ্যাটিকানের নাগরিক। যাজক ও বিশপ হিসেবে দুই দশকের বেশি সময় কাটিয়েছেন পেরুতে। মার্কিন আইনে বিদেশে থাকা নাগরিকেরা অনুপস্থিত ভোটার হিসেবে ডাকযোগে ভোট দিতে পারেন—সেই সুযোগই নিয়েছেন তিনি। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, অন্য রাষ্ট্রের প্রধান হলে কোনো মার্কিনির নাগরিকত্ব পর্যালোচনা হতে পারে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী রেকর্ড বলছে, ২০০০ সালের পর তিনি পাঁচবার দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন—২০০৮ ও ২০১০ সালে ডেমোক্রেটিক এবং ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ সালে রিপাবলিকান ব্যালট নিয়েছিলেন। এবার ইলিনয়ের ভোটাররা অবসরে যাওয়া সিনেটর ডিক ডারবিনের উত্তরসূরি এবং গভর্নর জে বি প্রিৎজকারের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।
অস্ত্রোপচারের আগেই ব্যালটের আবেদন
পোপ লিও গত ৩ অক্টোবর ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এর ১০ দিন পর ফুসফুসের একটি ক্যানসার আক্রান্ত টিউমার অপসারণে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। ১৭ অক্টোবর হাসপাতাল ছাড়ার পর ধীরে ধীরে তিনি দায়িত্বে ফিরছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে পোপ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসন নীতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর একাধিকবার মতবিরোধ হয়েছে। মার্কিন ক্যাথলিক বিশপদের সম্মেলন অবশ্য বলেছে, পোপের এই ভোট নাগরিক দায়িত্ব পালনের একটি দৃষ্টান্ত।
আরও পড়ুন: ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ আমরা শুরু করিনি’: ট্রাম্প, পাল্টা সমালোচনা ওবামার
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা, সিবিএস নিউজ
ছবি: Thecri95 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0) — মূল ছবি


