গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে (ডিআরসি) চলমান প্রাদুর্ভাবে ইবোলায় মৃত্যু ৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত মে মাসে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সর্বশেষ এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
কঙ্গোর ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ইবোলা প্রাদুর্ভাব। বিশ্বে এর চেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব হয়েছিল কেবল ২০১৪-১৬ সালে পশ্চিম আফ্রিকার গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনে—সেবার ২৮ হাজার ৬০০-র বেশি মানুষ আক্রান্ত হন এবং মারা যান ১১ হাজারের বেশি।
ইবোলায় মৃত্যু বাড়ছে কেন
এবারের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনে। এই ধরনের বিরুদ্ধে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো নেই। এর সঙ্গে দেরিতে রোগ শনাক্ত হওয়া, পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র সংঘাত এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে ভাইরাসটি আগের প্রাদুর্ভাবগুলোর চেয়ে দ্রুত ছড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতেও মৃতের সংখ্যা ছিল ৪ হাজারের ঘরে; এক মাসের মধ্যেই তা আরও এক হাজার বেড়েছে।
দেশটির ২৬টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ৮টিতে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। উত্তর কিভু প্রদেশের বুটেম্বো শহর সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশেও
ভাইরাসটি এখন আর কঙ্গোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রতিবেশী উগান্ডা ও কেনিয়ায় আগেই রোগী শনাক্ত হয়েছিল। গত সপ্তাহে নাইজেরিয়া চতুর্থ আফ্রিকান দেশ হিসেবে ইবোলা রোগী শনাক্তের কথা জানায়, যার মাধ্যমে প্রাদুর্ভাব পশ্চিম আফ্রিকাতেও পৌঁছাল।
সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণে কড়াকড়ি আরোপ করছে। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার সৌদি আরব কেনিয়ার সঙ্গে যাতায়াত স্থগিত করেছে, কেনিয়ার নাগরিকদের ভিসা দেওয়া বন্ধ রেখেছে এবং গত ২১ দিনে আক্রান্ত দেশগুলোতে ছিলেন—এমন যাত্রীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। এর আগে জুনে কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি। মধ্যপ্রাচ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী থাকায় এসব ভ্রমণ-নিয়ম সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: এশিয়ার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, দূষণে শীর্ষে লাহোর; ঢাকা ২০তম
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা / রয়টার্স, এপি
ছবি: MONUSCO Photos / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0) — মূল ছবি


