কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়াতে গাজীপুরের ভবানীপুরে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) আঞ্চলিক কেন্দ্রে গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র (জিআইসি) চালু হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর) কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন।
তিন একর জমির ওপর বাংলাদেশ-চীন অংশীদারত্ব প্রকল্পের আওতায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটি নির্মিত হয়েছে। কোবাল্ট-৬০ উৎস ব্যবহার করে এর ধারণক্ষমতা ৫০০ কিলোকুরি।
গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্রে কী সুবিধা মিলবে
বিনার তথ্য অনুযায়ী, বিকিরণ প্রয়োগে আম ও কলার সংরক্ষণকাল ১০ থেকে ২১ দিন বাড়বে। পেঁয়াজ ও আলু ছয় মাস এবং রসুন ১২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাবে। একই সঙ্গে ক্ষতিকর জীবাণু ও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ঠিক থাকবে পণ্যের মান। কর্তৃপক্ষের হিসাবে, এতে বছরে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ টন ফসলের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমবে, সাশ্রয় হবে অন্তত ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
মন্ত্রী বলেন, গাজর, ক্যাপসিকাম, আম, কাঁঠাল ও আনারসের মতো পণ্যের বিশ্ববাজারে ভালো চাহিদা রয়েছে; এ কেন্দ্র রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে ভূমিকা রাখতে পারে। গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলাম জানান, চিকিৎসা সরঞ্জাম পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করতেও এ প্রযুক্তি কার্যকর।
অনুষ্ঠানে কৃষিসচিব মো. সেলিম খান কৃষক, প্রক্রিয়াজাতকারী ও রপ্তানিকারকদের এ সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করার তাগিদ দেন। বিনার মহাপরিচালক শরিফুল হক ভূঁইয়া মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এফএওর বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি এবং পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের আলোচনা
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
ছবি: Sm faysal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


