স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। মাদ্রিদ-সেভিয়া উচ্চগতির রেলপথে টলেডো প্রদেশের উরদা এলাকার কাছে গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৩ মিনিটে রাষ্ট্রায়ত্ত রেনফের একটি ট্রেন সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেসরকারি অপারেটর ইরিওর একটি ট্রেনকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। চলতি বছর দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় রেল বিপর্যয়।
আঞ্চলিক সরকারপ্রধান এমিলিয়ানো গার্সিয়া-পাখে ৬৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৭৪ জন নিহতের কথা জানালেও পরে তা সংশোধন করা হয়। নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে পরিবারগুলো ৬৭টি অভিযোগ জমা দিয়েছে, মরদেহ শনাক্তের কাজ এখনো চলছে।
স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল
দেশটির পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে ওই রুটে ছয়টি ট্রেন প্রথমে থেমে যায়। এরপর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে রেনফের ট্রেনটিকে স্বাভাবিক গতিতে চলার অনুমতি দেওয়া হয়, অথচ একই লাইনে সামনে তখনো দাঁড়িয়ে ছিল ইরিওর ট্রেন। মন্ত্রী এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্যাখ্যার অতীত’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থাও সেদিন কাজ করেনি বলে খবর এসেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, সংঘর্ষের সময় ট্রেনটির গতি ছিল ঘণ্টায় ১৬০ থেকে ২০০ কিলোমিটার। ট্রেন দুটির ‘ব্ল্যাক বক্স’ বা রেকর্ডার বিশ্লেষণের পর চূড়ান্ত গতি ও দায় নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহতদের মধ্যে বিদেশিরাও
নিহতদের বেশির ভাগই স্প্যানিশ নাগরিক। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চারজন এবং কানাডা, জাপান, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিকও প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্স ও পর্তুগালের নাগরিকও নিহতের তালিকায় আছেন। অস্ট্রেলিয়ার দুজন ও জাপানের একজন এখনো নিখোঁজ। স্প্যানিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশটির সাবেক শ্রমমন্ত্রী ফাতিমা বানিয়েজও নিহত হয়েছেন।
তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক, প্রচার স্থগিত
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন এবং দুর্ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২৯ নভেম্বরের আগাম নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান দুই দল তাদের প্রচার কর্মসূচি স্থগিত করেছে। উদ্ধারকাজে সেনা ও পুলিশের ৮০০-র বেশি সদস্য, তিনটি হেলিকপ্টার, ড্রোন ও স্নিফার কুকুর নামানো হয়।
এ বছরের জানুয়ারিতে কর্দোবা প্রদেশের আদামুসে একই দুই অপারেটরের ট্রেনের দুর্ঘটনায় ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। তাই রেলের নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। ট্রেনচালকদের সংগঠন সেমাফ ধর্মঘট পালন করেছে। শ্রমিক সংগঠনগুলোর অভিযোগ, জনবলসংকট ও অতিরিক্ত কাজের চাপের কারণেই এমন ভুল হচ্ছে। তবে পরিবহনমন্ত্রী স্পেনের রেলব্যবস্থা অনিরাপদ—এমন দাবি নাকচ করেছেন।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলের মহেড়ায় নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ রেল যোগাযোগ বন্ধ
তথ্যসূত্র: আইবিটাইমস ইউকে, দ্য গার্ডিয়ান, সিবিএস নিউজ
ছবি: Carlos Teixidor Cadenas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


