চলতি ২০২৬ সালে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) বাংলাদেশ প্রতিবেশী ভারতকে পেছনে ফেলবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির অক্টোবর ২০২৬ সংস্করণের ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে রোববার (২৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
আইএমএফের হিসাবে, চলতি বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াবে ২ হাজার ৮৮৬ ডলারে, যেখানে ভারতের হবে ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। আগামী বছর বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৩ হাজার ২১৯ ডলারে এবং ভারতের ৩ হাজার ৩৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে। তবে ২০২৯ সালে ভারত (৩ হাজার ৬৬১ ডলার) আবার বাংলাদেশকে (৩ হাজার ৩৩৪ ডলার) ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
পুরো চিত্র ভিন্ন
তবে মাথাপিছু হিসাবই অর্থনীতির পূর্ণ চিত্র নয়। মোট জিডিপির আকারে ভারত (৪ দশমিক ১৫ ট্রিলিয়ন ডলার) বাংলাদেশের (৫০৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার) প্রায় আট গুণ। দুই দেশের জিনিসপত্রের দামের পার্থক্য বিবেচনায় নিলে (ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা পিপিপি ভিত্তিতে) ভারতের মাথাপিছু জিডিপি ১২ হাজার ৯৯৮ ডলার, বাংলাদেশের ১০ হাজার ৮৮৪ ডলার।
প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিতেও পিছিয়ে বাংলাদেশ। চলতি বছর ভারতের প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের হতে পারে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। গড় মূল্যস্ফীতি ভারতে ৫ শতাংশ, বাংলাদেশে ৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
পোশাক খাত ও প্রবাসী আয়ের ভূমিকা
বাংলাদেশের এই অবস্থানের পেছনে তৈরি পোশাক খাত, প্রবাসী আয় ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি আসে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক খাত থেকে। ভারতীয় অর্থনীতিবিদ সন্তোষ মেহরোত্রা আল জাজিরাকে বলেন, রপ্তানিমুখী উৎপাদন খাতের প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সঠিক পথে রয়েছে।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি সরবরাহ ও জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশের অর্থনীতি চাপে রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের প্রয়োজনীয় তেল ও এলএনজির ৯৫ শতাংশই আমদানি করতে হয়।
বিশ্লেষকেরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, মাথাপিছু জিডিপি একটি গড় হিসাব, যা আয়বৈষম্য দেখায় না। এ ছাড়া ডলারের বিনিময় হার ওঠানামা করলেও এই র্যাংকিং বদলে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: আইএমএফ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (অক্টোবর ২০২৬), আল জাজিরা


