লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মরহুম জিয়াউল হক জিয়ার দশম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ছিল তাঁর মৃত্যুর ১০ বছর পূর্তি।
দিনটি উপলক্ষে রামগঞ্জসহ লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন এলাকার বিএনপি নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও স্থানীয় অনলাইন পেজগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শ্রদ্ধাভরে তাঁকে স্মরণ করেন। অনেকে তাঁর ছবি ও স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট দিয়ে বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং সবার কাছে দোয়া চান।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টগুলোতে নেতাকর্মীরা তাঁকে ‘আধুনিক রামগঞ্জের রূপকার’ ও ‘গণমানুষের নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একজন লিখেছেন, “রামগঞ্জের জনগণ ভুলবে না, আপনার মতো লিডার আর কোনো দিন রামগঞ্জবাসী পাবে না।” তবে তৃণমূলের কয়েকজন কর্মী দিনটিকে ঘিরে দলীয়ভাবে বড় পরিসরে আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকায় হতাশাও প্রকাশ করেছেন।
সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
জিয়াউল হক জিয়া ১৯৫৩ সালের ১১ মার্চ তৎকালীন নোয়াখালী জেলার (বর্তমান লক্ষ্মীপুর) রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের কেতুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি রূপালী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন।
বিএনপির মনোনয়নে তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সংসদে এ আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর সময়ে রামগঞ্জে সড়ক, সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নের কথা এখনো স্থানীয়রা স্মরণ করেন।
দীর্ঘদিন ক্যানসারে ভুগে ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর সকালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৩ বছর। তিনি স্ত্রী নাসিমা হক, ছেলে মাশফিকুল হক জয় ও মেয়ে প্রিয়াঙ্কা হকসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, নেতাকর্মী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
তথ্যসূত্র: স্থানীয় ফেসবুক পেজ ও নেতাকর্মীদের পোস্ট, বিডিনিউজ২৪।


