
নিউজ ডেস্ক:
নিয়মিত চেকআপের জন্য ২০২১ সালের ৪ মার্চ সিঙ্গাপুর যান বরেণ্য অভিনেতা ও ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন পাঠান ফারুক। চেকআপের পর ডাক্তাররা তার শারীরে নানা জটিলতা খুঁজে পান। আর সেই থেকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ‘মিয়া ভাই’ খ্যাত এই অভিনেতা। উচ্চ রক্তচাপ, মস্তিস্ক, স্নায়ুতন্ত্রের নানা সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হাসপাতালে ৭৮০ দিন বেঁচে ছিলেন ফারুক। এই ভালো, এই খারাপ এমনই ছিল তার শারীরিক অবস্থা। প্রথম দিকে হাসপাতালে টানা চার মাস ছিলেন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ)। যদিও উন্নত চিকিৎসার জন্য ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালের শরণাপন্ন হন তিনি।
কিন্তু সে সময় বাংলাদেশ টু সিঙ্গাপুরের আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলেন এই অভিনেতা। আর ২০২১ সালে মার্চ থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত (সোমবার, ১৫ মে) সিঙ্গাপুরেই কেটেছে তার দিন।
হাসপাতালে সর্বক্ষণ তার পাশে ছিলেন তার স্ত্রী ফারহানা পাঠান। বিভিন্ন সময় দেশের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই নায়কের সবশেষ শারীরিক অবস্থার কথা। টানা চার মাস আইসিইউতে থাকার পর ফারুককে যখন সাধারণ কেবিনে তখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। হাসপাতালের বিছানায় বসেই কথা বলেছেন দেশের আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী ও গণমাধ্যমের সঙ্গে। জানিয়েছেন, দেশে ফেরার কথাও।
গেল বছর শেষদিকে একটি অনলাইন গণমাধ্যমকে ফারুক বলেছেন, ‘আপনাদের দোয়া ও ভালোবাসায় মনে হয়, এ যাত্রায় বেঁচে গেছি। এখন আগের থেকে অনেকটা সুস্থ। দেশে ফেরার অপেক্ষায় আছি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’
তিনি আরো জানান, দেশের ফিরে সবার (সহকর্মীদের) সঙ্গে দেখা করবেন। যাবেন প্রিয় এফডিসিতে। আর তার মৃত্যুটা যেন এ দেশের মাটিতেই হয়।
সে সময় স্ত্রী ফারহানা পাঠান বলেন, ‘এখন অবশ্য পুরোপুরি সুস্থ আপনাদের মিয়া ভাই। শারীরিক কোনো জটিলতাও নেই। এখন ডাক্তারের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র মিললেই দেশে ফিরছি। বর্তমানে তার চিকিৎসক দেশের বাইরে রয়েছেন। তিনি দেশে (সিঙ্গাপুর) ফিরলেই ফারুককে আবার দেখবে। এরপর আশা করি, ছাড়পত্র দিয়ে দিবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুনলাম, দেশে অনেকেই কথা তুলেছেন, আর্থিক জটিলতার কারণে নাকি আমরা ফিরতে পারছি না। বিষয়টি ভুল তথ্য। মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যেহেতু ফারুকের দীর্ঘদিন চিকিৎসা হয়েছে। এর মধ্যে আইসিইউতেও থাকতে হয়েছে চার মাস। এটা স্বাভাবিক এখানে অনেক টাকা বিল হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ টাকাই দেয়া হয়েছে। এখন অল্প কিছু টাকা বাকি আছে। সেটা কোনই ঘটনা না! সব টাকা পরিশোধ করলাম আর অল্প কিছু টাকার জন্য দেশে ফেরা হবে না! এটা আসলে ভুল তথ্য।
এ যাত্রায় দেখতে দেখতে ৭৮০ দিন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, সিনেমার বরেণ্য এই অভিনেতা। সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে, আসার কথা ছিল। অথচ সকালে মৃত্যুর কাছে পরাজিত হলেন ফারুক। মঙ্গলবার সকালে তিনি ঠিকই দেশে ফিরছেন। তবে সেই দেহে থাকছে না প্রাণ।
/আবদুর রহমান খান/



