সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে করা নয়টি মামলায় জালিয়াতির অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করেছেন আপিল বিভাগ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের বেঞ্চে হাজির হয়ে তিনি নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার আদেশ দেওয়ার কথা।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। আদালতকক্ষের সূত্র জানায়, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হতে পারে বলে আদালত মন্তব্য করেছেন।
শিক্ষক নিয়োগ মামলায় কী অভিযোগ
২০২০ সালের একটি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেন। শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা ২০১৩ অনুযায়ী ৬০ শতাংশ নারী কোটা মানা হয়নি উল্লেখ করে তখনকার চূড়ান্ত ফল বাতিল করে ছয় মাসের মধ্যে নতুন মেধাতালিকা করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগ উঠেছে, মূল ৫৮ জন রিটকারীর বাইরে আরও ৬৪ জনকে সহ-আবেদনকারী হিসেবে যুক্ত করতে এফিডেভিট করা হয়। নিয়মিত সেকশন প্রক্রিয়া ও বিবাদীদের নোটিশ ছাড়াই নথি সরাসরি বিচারকের কাছে তোলা হয় এবং এক দিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর হয়। পরে রায়ে মূল রিটকারীদের বাদ দিয়ে নতুন যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষে আদেশ আসে। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানিতে এসব অনিয়ম সামনে আসে।
আইনজীবীর বক্তব্য
ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া দাবি করেন, তিনি নিয়ম মেনেই কাজ করেছেন; সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল। কয়েকজন মূল আবেদনকারীকে বাদ দেওয়া ও কয়েকজনকে যুক্ত করার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তাঁর কোনো ত্রুটি হয়নি। উল্লেখ্য, বিচারপতি নাইমা হায়দার চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করেন।
আরও পড়ুন: জালিয়াতি করে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, তিন উপসচিব ওএসডি
তথ্যসূত্র: জাগো নিউজ
ছবি: Towhidul Islam 21 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


