
নিজস্ব প্রতিবেদক
মৌখিক বিয়ে পরিবার না মেনে না নেওয়ায় কলেজছাত্রীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ৮ মে সালনার আবদুর রউফের মেয়ে রাবেয়া আক্তারকে (২৩) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় তার মা ও ২ বোনকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার আসামিকে টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। অভিযুক্তের নাম- মো. সাইদুল ইসলাম।
বুধবার রাতে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র্যাব-১ এর একটি দল টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর এলাকা থেকে সাইদুলকে গ্রেপ্তার করে। তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা।
৮ মে রাতের এই ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে গাজীপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইদুল জানান, ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে ভিকটিমের পরিবারের সবাইকে আরবি পড়ানোর জন্য গৃহশিক্ষক হিসেবে ভিকটিমের বাবা তাকে নিয়োগ করেন। আরবি পড়ানোর সুবাদে তিনি প্রতিনিয়ত ভিকটিমের বাসায় যাওয়া-আসা করতেন। একপর্যায়ে ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় সাইদুল ভিকটিমের প্রতি কুনজর দেন এবং একপর্যায়ে ভিকটিমকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।
র্যাব জানায়, ৫-৬ মাস আরবি শেখানোর পর পড়ানো বন্ধ করে দেয়া হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে সাইদুল প্রতারণামূলকভাবে ভিকটিমকে মৌখিকভাবে বিয়ে করেন। পরে এ বিয়ের সামাজিক স্বীকৃতির জন্য ভিকটিম ও তার পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। ভিকটিমের পরিবার অসৎ উদ্দেশ্যের বিষয়টি জানতে পেরে সাইদুলের সঙ্গে ভিকটিমের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ভিকটিম গাজীপুর সদর থানায় বিভিন্ন সময়ে তাকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়ে একটি অভিযোগ দেন, যার কারণে সাইদুল কিছুদিন উত্ত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকেন।
র্যাব আরও জানায়, গত ২ মাস ধরে ভিকটিমের কলেজে এবং বাসার বাইরে যাওয়া-আসার পথে সাইদুল ফের তাকে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করেন এবং প্রস্তাবে রাজি না হলে ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। একপর্যায়ে সাইফুল জানতে পারেন, ভিকটিমের পরিবার তাকে উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিষয়টি সাইদুল কোনোভাবেই মেনে নিতে না পেরে ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘ভিকটিমকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য গত ৭ মে বিকালে স্থানীয় বাজারে কামারের দোকানে ৬৫০ টাকা দিয়ে গরু জবাই করার একটি ছুরি তৈরি করতে দেন সাইদুল। পর দিন ৮ মে সন্ধ্যায় ছুরি সংগ্রহ করে ভিকটিমের বাসায় গিয়ে তার রুমে ঢুকে ছুরি দিয়ে মাথায়, গলায়, হাতে এবং পায়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় চিৎকার শুনে মা ও দুই বোন দৌড়ে গিয়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সাইদুল ছুরি দিয়ে তাদেরকেও এলোপাতড়ি কুপিয় জখম করে পালিয়ে যান।’
র্যাব আরও জনায়, চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক কলেজছাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মা ও ছোট ২ বোনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন চিকিৎসক। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাদেরকে উত্তরার একটি হাপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে ভিকটিমের মা আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন আরও বলেন, ‘সাইদুল চট্টগ্রামের একটি মাদ্রাসা থেকে দাওরা পাস করে গাজীপুরের একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার পাশাপাশি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতেন তিনি। দুমাস আগে দুটি চাকরিই ছেড়ে দেন সাইদুল।
এদিকে ঘটনার পর থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দেয়ার জন্য সাইদুল ছদ্মবেশ ধারণ করে টাঙ্গাইলের ভূঞাঁপুরে তার এক বন্ধুর বাসায় আত্মগোপন করেন বলে জানিয়েছে র্যাব। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে র্যাব তাকে গ্রেপ্তার করে।
এম.নাসির/১১



