বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 29, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

ক্রেতার আগাম টাকায় শুরু, পাহাড়ি গয়নায় এখন দুটি বিক্রয়কেন্দ্র দীপ্তি চাকমার

পুঁজি ছিল না, ছিল পাহাড়ি গয়না নিয়ে ব্যবসা করার ইচ্ছা। তাই ফেসবুকে একটি পেজ খুলে বাজারের ঐতিহ্যবাহী গয়নার ছবি তুলে পোস্ট দিতেন দীপ্তি চাকমা। ক্রেতা অগ্রিম অর্ধেক টাকা দিলে সেই টাকায় দোকান থেকে গয়না কিনে পাঠাতেন। ২০১৭ সালে এভাবে শুরু করা ব্যবসা থেকে এখন তাঁর রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে দুটি বিক্রয়কেন্দ্র। খরচ বাদ দিয়ে মাসে গড়ে আয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

রাঙামাটির কুতুকছড়ির মেয়ে দীপ্তির প্রতিষ্ঠানের নাম ‘অর্নামেন্টস অব ধনপুদি’। ব্যবসা শুরুর সময় তিনি স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

বান্ধবীর বিয়ে থেকে বড় সুযোগ

দীপ্তি প্রথম আলোকে জানান, শুরুতে ক্রেতাদের আস্থা অর্জনই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিছুদিন পর এক বান্ধবীর বিয়ের সব অলংকার সরবরাহের কাজ পান। কনের গয়না দেখে আত্মীয়দের অনেকে খোঁজ নেন, সেখান থেকেই নতুন ক্রেতা বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে রাঙামাটিতে প্রথম বিক্রয়কেন্দ্র এবং ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ির জামতলায় দ্বিতীয়টি চালু করেন।

আরও পড়ুন  এক বছরে আইডিএলসি ফাইন্যান্সের মুনাফা বেড়েছে ১৮ শতাংশ

কোন কোন পাহাড়ি গয়না বিক্রি হয়

তাঁর দোকানে পাওয়া যায় ঐতিহ্যবাহী ‘আলজরা’, ‘আজুলি’, ‘হুজি হারু’, ‘থেং হারু’, বাজু, কয়েন মালা, নেকলেস, টিকলি, আংটি ও চুড়ি। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বিয়ে, সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এসব অলংকার ব্যবহার হয়। অনলাইনে সারা দেশে পণ্য পাঠানোর পাশাপাশি শোরুমে সরাসরি দেখেও কিনতে পারছেন ক্রেতারা।

ব্যবসার মধ্যেই সমাজবিজ্ঞানে স্নাতক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন দীপ্তি। খাগড়াছড়ির শোরুমে এখন দুজন কর্মী কাজ করেন। তাঁর মতে, পাহাড়ে অনেক নারী উদ্যোক্তা হতে চান, সহজ শর্তে ঋণ পেলে সংখ্যাটা আরও বাড়ত। খাগড়াছড়ি জেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা সুস্মিতা খীসা তাঁর উদ্যোগকে প্রশংসনীয় বলেছেন।

আরও পড়ুন: দুই দিনে ভরিতে ৩,৮৪৯ টাকা বাড়ল সোনার দাম, ২২ ক্যারেট ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা

আরও পড়ুন  অক্টোবরে ডেঙ্গু-হামের প্রকোপ বাড়ছে, ২৫ দিনে মৃত্যু ২৫৮

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো

ছবি: পাপৰি বৰা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ