মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

বিশ্লেষণ: বিদেশি ঋণের চাপ বাড়ছে, সতর্ক হওয়ার সময় এখনই

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বাংলাদেশ বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ডলার পরিশোধ করেছে, অথচ একই সময়ে সহায়তা এসেছে মাত্র ৬৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ প্রতি এক ডলার সহায়তার বিপরীতে দুই ডলারের বেশি দেশ থেকে বেরিয়ে গেছে।

কেন এটি দুশ্চিন্তার

একদিকে অর্থছাড় কমছে, অন্যদিকে আগের নেওয়া ঋণের কিস্তি ও সুদ বাড়ছে। নতুন প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়লেও প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে সেই অর্থ সময়মতো আসছে না।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে প্রবৃদ্ধির ধীরগতি। আইএমএফ চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ২ শতাংশে এবং বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নামিয়েছে। আয় যখন ধীরে বাড়ে, তখন ঋণ পরিশোধের চাপ রিজার্ভ ও বাজেটের ওপর বেশি পড়ে।

আরও পড়ুন  হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমেছে কেজিতে ১০-১৫ টাকা

করণীয়

  • প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত করা: প্রতিশ্রুত অর্থ দ্রুত ছাড় করাতে প্রকল্পের অগ্রগতি বাড়ানো জরুরি।
  • সাশ্রয়ী ঋণে অগ্রাধিকার: উচ্চ সুদের বাণিজ্যিক ঋণের বদলে কম সুদের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বেছে নেওয়া।
  • রাজস্ব আয় বাড়ানো: এনবিআর সংস্কারসহ কর আহরণ বাড়ানো, যাতে ঋণনির্ভরতা কমে।
  • রপ্তানি ও প্রবাসী আয় বাড়ানো: বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়লেই ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা টেকসই হবে।

বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণ এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। তবে বর্তমান প্রবণতা চলতে থাকলে আগামী কয়েক বছরে চাপ আরও বাড়বে। তাই এখনই সতর্ক পরিকল্পনা প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ