মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2026

পরীক্ষামূলক সম্প্রচার

বিশ্লেষণ: অভিবাসন ব্যয় না কমালে ঝুঁকিতেই থাকবেন প্রবাসী কর্মীরা

প্রবাসী আয় বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি। কিন্তু যাঁরা এই আয় পাঠান, সেই কর্মীদের বড় অংশ বিদেশ যাত্রার শুরুতেই ঋণের বোঝা নিয়ে যাত্রা করেন। সম্প্রতি রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে গবেষকেরা এই চিত্র তুলে ধরেছেন।

ঋণের ফাঁদ

বিশ্বব্যাংক ও আইএলওর ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, কিছু কর্মী বিদেশে সম্ভাব্য দুই থেকে তিন বছরের মজুরির সমান অর্থ রিক্রুটিং এজেন্টকে দিয়েছেন। কেউ কেউ বছরে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ দিলীপ রথ এই ঋণের বোঝাকে ‘আধুনিক দাসত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর ফলে কর্মীর আয়ের বড় অংশ প্রথম কয়েক বছর ঋণ শোধেই চলে যায়। পরিবারে পাঠানো অর্থ কমে, আর শোষণের ঝুঁকি বাড়ে।

আরও পড়ুন  বিদেশগামী কর্মীদের কল্যাণ ফি বেড়ে ৫৫০০ টাকা

বাজারও সংকুচিত হচ্ছে

গবেষকেরা জানান, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোতে নিয়োগ ধীর হয়েছে এবং নিয়োগকর্তারা আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়া থেকে বেশি কর্মী নিচ্ছেন। দেশে তিন হাজারের বেশি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৩০০ থেকে ৫০০টি কঠোর মানদণ্ড পূরণ করতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

যা করা যেতে পারে

  • রিক্রুটিং ফি কমানো এবং ভুয়া বা লাইসেন্সবিহীন এজেন্টদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ
  • বিশেষ করে নারী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার করা
  • প্রবাসীদের মামলার জন্য জেলা পর্যায়ে বিশেষ আদালত ও ২৪ ঘণ্টার আইনি সহায়তা হটলাইন
  • বিদেশের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ঢেলে সাজানো

প্রবাসী আয় বাড়াতে শুধু কর্মী পাঠানোর সংখ্যা নয়, অভিবাসন ব্যয় কমানো ও কর্মীর অধিকার নিশ্চিত করাই হতে পারে টেকসই পথ।

আরও পড়ুন  সড়কে ৭৩ হাজার অনুপযোগী গাড়ি, ঘটছে দুর্ঘটনা

তথ্যসূত্র: রামরু, বিশ্বব্যাংক-আইএলও জরিপ, দ্য ডেইলি স্টার

আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ