সাতক্ষীরার খোলপেটুয়া নদীর তীরে নৌকায় বসে আছে একদল বানর—গায়ে-গতরে বেশ নাদুসনুদুস। বন বিভাগের কর্মী ও জেলেরা বলছেন, সুন্দরবনের বানর দেখলেই বোঝা যায় কেওড়ার মৌসুম চলছে। শ্রাবণ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত কেওড়া ফল প্রচুর পাওয়া যায়। এখন কার্তিক মাস, বেশির ভাগ গাছের ফল ঝরে গেছে; তবু যে কয়টি গাছে ফল আছে, সেগুলোর খোঁজে এক গাছ থেকে আরেক গাছে ছুটছে বানরের দল।
কালাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রের বনকর্মী মো. মহিউদ্দিন জানান, কেওড়া সুন্দরবনের বানরের অন্যতম প্রধান খাবার। এটি হরিণ ও অনেক প্রজাতির পাখিরও খাদ্য। মৌসুম শেষ হলে বানরেরা কচি পাতা, ঘাস ও নদীর পাড়ের কাঁকড়া খেয়ে থাকে, তখন তাদের শরীরের মেদও কমে যায়।
বানর আর হরিণের বন্ধুত্ব
গাছের ওপর থেকে বানর ফল ও পাতা ফেলে, আর নিচে দাঁড়িয়ে তা খায় হরিণ। বাঘের উপস্থিতি টের পেলে উঁচু ডাল থেকে বানর জোরে ডেকে ওঠে, তাতে সতর্ক হয়ে যায় হরিণের দল। জেলেরা কেওড়া দিয়ে ডাল রান্না করেন, আবার সেদ্ধ করে বড়শির টোপ হিসেবেও ব্যবহার করেন।
পর্যটকদের কাছে খাবারের আশায় ছুটে আসা বানরেরা কেওড়ার মৌসুমে খাবারে তেমন আগ্রহ দেখায় না। তবে ট্রলারমালিক আনিসুর রহমান সতর্ক করে বলেন, খাবার না পেলে কিছু বানর আক্রমণাত্মক হয়ে ব্যাগ বা খাবার ছিনিয়ে নেয়, উত্ত্যক্ত করলে কামড়ও দিতে পারে।
আইইউসিএনের ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশ অংশের সুন্দরবনে বানরের সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪। ২০০৪ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৫১ হাজার। অর্থাৎ দুই দশকে বানর বেড়েছে প্রায় তিন গুণ।
আরও পড়ুন: সরকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করে যাচ্ছে : বনমন্ত্রী
তথ্যসূত্র: প্রথম আলো
ছবি: Md shahanshah bappy / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0) — মূল ছবি


